ছাত্রজীবনেই শুরু হোক সঞ্চয়

Student.jpg
smart female college student on campus

ছাত্রজীবন থেকেই যদি সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা যায়,তাহলে জীবনে কঠিন পরিস্থিতির কবলে পড়ার সম্ভাবনা কম থাকে। হতাশ হতে হয় না জীবনের পদে পদে। একটু কঠিন মনে হলেও,ছাত্রজীবনেই সঞ্চয় শুরু করা উচিৎ।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আবাসিক-অনাবাসিক এই দুই প্রকারেরই শিক্ষা ব্যবস্থা আছে। সুতরাং,সামগ্রিকভাবেই,সঞ্চয়ের ধারণা নিয়ে একটু আলোচনা করা যাকঃ

Student.jpg
smart female college student on campus

বাজেট করে ফেলুন প্রথম সপ্তাহেইঃ

সেমিস্টারের শুরুতেই করে ফেলুন পুরো মাসের/পুরো সেমিস্টারের বাজেট। যদিও ছাত্রজীবন, বাধা মানতে চায় না-তাই খরচের পাখাটাও বেড়েই চলে। তবে সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য এর বিকল্প নেই।

এই ক্ষেত্রে শুরুতেই সফল হবার আশা রাখা অবান্তর। প্রথম সেমিস্টারে ধরেই নিতে হবে, বাজেট অতিক্রম করবেই। কিন্তু চেষ্টা থাকতে হবে।খরচের খাত কোথায় বেশী তা সনাক্ত করতে হবে। পরের মাসে আবার চেষ্টা করতে হবে।

অথবা,আপনি প্রথমবার একটু বাড়িয়েই বাজেট করে নিতে পারেন,যেন কোনোভাবেই তা অতিক্রম না করে। এতে করে আপনার নিজের আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠবে,আপনি ইচ্ছা করলেই পরের মাসে বাজেট একটু কমিয়ে আনতে পারবেন। এভাবে,কিছু সময় পর,বাজেট মেনে চলা আপনার স্বভাবগত হয়ে যাবে।

খাবারের পরিকল্পনাঃ

খাবারের আয়োজন,সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। খেতে তো আপনাকে হবেই। কিন্তু একটু সচেতন হলেই এই ব্যয় আপনি অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারেন

যদি আবাসিক ছাত্র হয়ে থাকেন আপনার হল ভাড়া এবং খাবার বাবদ খরচ অন্যদের চেয়ে কিছুটা কম হবে। আর এটি আপনাকে সঞ্চয়ের একটা সুযোগ করে দেবে।

আবার যাদের স্থায়ীভাবে খাবারের ব্যাবস্থা নাই তারা দুপুরের খাবারটা সেরে নিতে পারেন ক্যাম্পাসেই। সেখানে, খরচবান্ধব এবং ছাত্রদের সুবিধার্থে খাবার খরচ একটু কমই হয়ে থাকে।

অনাবাসিক ছাত্র হয়ে থাকলে, মাসিক/দৈনিক হাত খরচের কত শতাংশ আপনি লাঞ্চের জন্য রাখবেন, তা আগেই ঠিক করে নিন। তাহলে যখন তখন আড্ডায় অহেতুক খরচ হবে না।

স্টুডেন্ট-ডিসকাউন্টঃ

এ ব্যাপারে আপনি কর্মজীবিদের তুলনায় ভাগ্যবান। যতদিন আপনি শিক্ষার্থী থাকছেন,আপনি উপভোগ করতে পারবেন বিভিন্ন “মূল্য-ছাড়”। বিভিন্ন সংস্থা- হতে পারে তা  খাবার দোকান, কাপড়ের দোকান বা দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য জিনিসের দোকান। উপভোগ করুন “স্টুডেন্ট- ডিসকাউন্ট”। যে সব ব্র্যান্ড ডিসকাউন্ট প্রদান করে,তাদের কে  স্ট্যুডেন্ট আই. ডি কার্ড প্রদর্শন করলেই আপনি পেয়ে যাবেন নির্ধারিত ডিস্কাউন্ট,যার শুরু ১০% থেকে।

তার মানে কিন্তু আপনার “শপিং ম্যানিয়া” কে উৎসাহিত করা না, বরং আপনার সঞ্চয়ী মনোভাব কে জাগ্রত করা। আপনি ডিস্কাউন্ট এর জন্য যে টাকাটা বেঁচে গেছে তা সঞ্চয় করতে পারেন। আপাত দৃষ্টিতে কম দেখালেও শিক্ষাজীবন শেষে এখানে ভালো পরিমাণ টাকা সঞ্চয়ের সম্ভাবনা আছে।

সাশ্রয়ী মূল্যে বই কেনা

বইপত্র সংগ্রহের বেলায় যেখানে একটু কম মূল্যে বই পাওয়া যায় সেখান থেকে বই কিনতে পারেন। তাছাড়া অনেক সময় খানিকটা পুরাতন বইও কিনতে পাওয়া যায়, যেগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে কম। চাইলে কিন্তু এই বই দিয়েও আপনার কাজ চালিয়ে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে যে টাকাটা বেঁচে যাবে সেটি আপনি সঞ্চয় করতে পারেন।

স্বল্প মূল্যে সেকন্ড হ্যান্ড বই পেয়ে যাচ্ছেন,আবার সেমিস্টার শেষে,অপ্রয়োজনীয় বই গুলো একটি নির্দিষ্ট কমিশনে বিক্রি করে দিতে পারছেন। এভাবে,প্রতি সেমিস্টারে বই-পত্র খাতে আপনার খুব বেশী একটা খরচের প্রয়োজন হবে না।বেঁচে যায় কিছু অর্থ।

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারঃ

যদিও ছাত্র জীবনে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার অনুচিত,তারপরও যদি নিতান্তই তা ব্যবহার করতে হয়,তাহলে মাথায় রাখতে হবে,ক্রেডিট কার্ডের অপর নাম-ঋণের বোঝা।

নিতান্ত বাধ্য না হলে তা ব্যবহার করা উচিৎ নয়। কোনো অত্যাবশ্যকীয় অবস্থায় তা ব্যবহার করেও ফেললে,যত দ্রুত সম্ভব, বিল-পে করে দিতে হবে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর মূল প্রদত্ত টাকার উপর আলাদা চার্জ যুক্ত হতে থাকে, যা পরবর্তীতে জমা দেয়া কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে। মনে রাখবেন আপনার বর্তমানের সুখ যেনো ভবিষ্যতের হতাশার কারণ না হয়।

উৎসবের আয়োজনঃ

বন্ধুদের আড্ডা,মাসে কারো না কারো জন্মদিন বা অন্য কোনো উপলক্ষ্য থেকেই যায়। উদযাপনের ক্ষেত্রে আপনি কি করবেন?

ছোট ছোট কিছু না দিয়ে বন্ধুকে দিতে পারেন কাজে লাগতে পারে এমন ভাল কোনো উপহার। আর সেটি দিতে পারেন কয়েক বন্ধু মিলে।

একটু বুদ্ধি খাঁটিয়ে সবাই মিলে যদি বন্ধুটিকে কোনো উপহার দিতে পারেন,তাহলে জনপ্রতি খরচটাও কমে যাবে।

অহেতুক ঋণ গ্রহণঃ

হুজুগে অহেতুক এমন কোন ঋণ গ্রহণ করবেন না,যা কোনোভাবেই আপনার শিক্ষার সাথে জড়িত নয়।

আপনি কি জানেন,এর মাধ্যমে আপনি আপনার ঘাড়ে অনাকাঙ্গখিত ঝামেলা বয়ে আনছেন যা আপনার প্রয়োজন নেই। তাই যে কোনো ধরনের ঋণ এড়িয়ে যাওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। শিক্ষাজীবনে আপনার একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিৎ শিক্ষা গ্রহণ ও নিজস্ব মতাদর্শ গঠন-যা আপনার ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করবে।

বুঝতেই পারছেন,শিক্ষা জীবনের শুরু থেকেই কত সহজে বেঁচে যায় কতগুলো টাকা। শুধু প্রয়োজন একান্তই নিজের সদিচ্ছা এবং একটু চিন্তাভাবনা করে কাজ করে সঞ্চয়ী মানসিকতা তৈরি করা।