কিছু অভ্যাস বদলালেই বেড়ে যাবে সঞ্চয়

Savings

মানুষ যত আয় করে, তত যেন তার ব্যয় বেড়ে যায়। মাস শেষে তেমন কিছুই থাকে না হাতে। কিন্তু ভবিষ্যতের জন্য কিছুটা সঞ্চয় বেশ জরুরি। কীভাবে খরচ বাঁচিয়ে মাসের শেষে সামান্য হলেও অর্থ সঞ্চয় করা সম্ভব তাই নিয়ে খুব বেশি ভেবে মাথা খারাপ করার প্রয়োজন নেই। কিছু অভ্যাস বদলে ফেলতে পারলেই বেঁচে যেতে পারে অনেকটা অর্থ। আর তা দিয়েও তিল তিল করে বাড়াতে পারেন সঞ্চয়ের ভাণ্ড।

Savings

কী সেই অভ্যেসগুলো,চলুন জেনে নেওয়া যাক –

# কোনো জিনিস কেনার আগে ভেবে নেওয়া ভাল, সেটি আদৌ এ সময়ে কেনা দরকার কি-না। তাই নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করুন। জিনিসটা কি খুব দরকারি? জিনিসটা কি আমি আদৌ ব্যবহার করব? কখন কখন ব্যবহার করব? কিনে কি লাভ হবে? অন্যান্য চাহিদার তুলনায় এই জিনিসটি চাহিদা কতটুকু?

# জিনিসটি কেনা যদি জরুরিই হয়, তাহলে তো কিনতেই হবে। এখন প্রশ্ন আসে-কোথা থেকে কিনবেন, কেমন দামে কিনবেন? কিছু জিনিস আছে যেগুলোর মান একই হওয়া সত্ত্বেও বেশি নামী ব্র্যান্ড ও অভিজাত এলাকার দোকান থেকে কিনলে বেশি দাম পড়ে। তাই এসব এলাকা ও দোকান এড়াতে পারলে আপনি কিছু অর্থ সাশ্রয় করতে পারবেন।

অন্যদিকে সস্তা শুনেই যে কোনো দোকান বা যে কোনো মানের জিনিস কিনে ফেলবেন না যেন। তাতে আপাত দৃষ্টিতে সাশ্রয় হচ্ছে মনে হলেও বাস্তবে সেটি ব্যয়বহুল হতে পারে। ধরা যাক, আপনি একটি গেজেট কিনবেন। সেটি ২ হাজার টাকাতেও পাওয়া যাচ্ছে, আবার মানভেদে এটির  ৩ হাজার টাকাও আছে। ধরা যাক, ২ হাজার টাকা দামের পণ্যটি ২ বছর টেকসই হবে। অন্যদিকে ৩ হাজার টাকা দামের জিনিসটি টেকসই হবে ৫ বছর। তাহলে কিন্তু ৩ হাজার টাকা দামের জিনিসটি কিনলেই প্রকৃতপক্ষে আপনার সাশ্রয় হবে।

# বাজারে বের হলে বুঝে খরচ করুন। হিসেব করে নিন কোন জিনিসগুলি না কিনলেও চলবে। অনেক সময় বিক্রেতার প্ররোচণায় এমন অনেক জিনিস কেনা হয়ে যায়,যা বাড়িতে আনার পর পড়েই থাকে। একবার এমনটা হলে পরেরবার আর এই ভুল নিশ্চয়ই করবেন না। আর তাতেই সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়বে।

# বন্ধুদের সঙ্গে পার্টি করা বা ঘুরতে যেতে কার্পণ্যের প্রয়োজন নেই; তবে একটি মিতব্যয়ী হওয়া যেতেই পারে। বন্ধু বা পার্টনারের সঙ্গে দামী কোনও রেস্তোরাঁয় গিয়ে একগুচ্ছ অর্থ খরচ না করে বাড়িতেই বাইরের খাবার কিনে পার্টির আয়োজন করে ফেলুন। এতে ঘুরতে গেলে যদি কোনও গ্রুপের সঙ্গে যান, তাহলে অনায়াসেই খরচ ভাগ হয়ে যায়।

# টানা কাজ করার পর সপ্তাহান্তে ছুটির দিনে আর রান্নাবান্না করার ইচ্ছে নাই করতে পারে। সেক্ষেত্রে দু’দিনের রান্না একেবারে করে রাখতে পারেন। তাহলে আর আলাদা করে বাইরে থেকে আনা খাবার খাওয়ার ইচ্ছে থাকে না। এতে শরীর ও পকেট দুইই সুস্থ থাকে।