জমির রেজিস্ট্রেশন কেন জরুরী ?

সব দলিল রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক। আইন অনুযায়ী দলিল রেজিস্ট্রি করা হলে মালিকানা নিয়ে কোনো ঝামেলা থাকে না। কেউ অবৈধ উপায়ে দখল করতে চাইলেও বিরোধ এড়ানো যায়। এ ছাড়া জমি রেজিস্ট্রি করা থাকলে পরে বিক্রি, দান ও উইল করতে সহজ হয়।

বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে দলিল অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। যেমন- বিক্রয় দলিল অবশ্যই রেজিস্ট্রি করতে হবে। জমি ক্রয় করার আগে বায়না দলিল করলে ৩০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশনের জন্য জমা দিতে হবে। রেজিস্ট্রি ছাড়া বায়না দলিলের আইনগত মূল্য নেই। বায়না দলিল রেজিস্ট্রির তারিখ থেকে এক বছরের মধ্যে বিক্রয় দলিল সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দাখিল করতে হবে। হেবা বা দানকৃত সম্পত্তির দলিলও রেজিস্ট্রি করতে হবে। বন্ধককৃত জমির দলিল রেজিস্ট্রি করতে হবে। এছাড়া কোনো ভূমি সম্পত্তি মালিকের মৃত্যু হলে তার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বাটোয়ারা করা এবং ওই বাটোয়ারা বা আপস বণ্টননামা রেজিস্ট্রি করতে হবে।

জমি রেজিস্ট্রি করতে কী কী লাগবে

জমি রেজিস্ট্রি করতে বিক্রীত জমির পূর্ণ বিবরণ উল্লেখ থাকতে হবে। দলিলে দাতাগ্রহীতার পিতা-মাতার নাম, পূর্ণ ঠিকানা এবং সাম্প্রতিক ছবি সংযুক্ত করতে হবে। যিনি জমি বিক্রয় করবেন, তার নামে অবশ্যই উত্তরাধিকার ছাড়া নামজারি থাকতে হবে। দলিলে বিগত ২৫ বছরের মালিকানাসংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও কার কাছ থেকে কে কিনল, সে বিবরণ লেখা থাকতে হবে। সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য, সম্পত্তির চারদিকের সীমানা, নকশা দলিলে থাকতে হবে। যিনি কিনছেন তিনি ছাড়া অন্য কারো কাছে এই জমি বিক্রি করা হয়নি মর্মে হলফনামা থাকতে হবে। জমির পর্চাগুলোতে সিএস, এসএ, আরএস মালিকানার ধারাবাহিকতা (কার পরে কে মালিক ছিল) থাকতে হবে। প্রয়োজন হলে বায়া দলিল সংযুক্ত করতে হবে।

রেজিস্ট্রি আইন ও ফি

দলিল রেজিস্ট্রি করা হয় রেজিস্ট্রেশন আইন, স্ট্যাম্প আইন, আয়কর আইন, অর্থ আইন ও রাজস্ব সংক্রান্ত বিধি এবং পরিপত্রের আলোকে। সব দলিলের রেজিস্ট্রি ফি সমান নয়। সরকার বিভিন্ন সময় সমসাময়িক বিবেচনা অনুযায়ী রেজিস্ট্রি ফি নির্ধারণ করে থাকে।

কর দেওয়ার নিয়ম
ভ্যাট ও উৎস কর সব সময়ই জমির বিক্রেতা প্রদান করবে। আয়কর আইনমতে, এ দুই ধরনের করের পরিমাণ বিক্রেতার আয়ের ওপর নির্ভর করবে। এই কর বিক্রেতার নামে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়। উৎসে কর ও ভ্যাট ছাড়া অন্য সব ধরনের কর জমির ক্রেতাকেই পরিশোধ করতে হবে।

উল্লেখ্য, প্রতিটি উপজেলায় সাবরেজিস্ট্রি অফিস আছে। সেখানে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। এছাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও উপজেলা ভূমি অফিসে বিক্রীত জমির তফসিল নিয়ে জমিটি আগে বিক্রি হয়েছে কি না, আগে অন্য কারো নামে নামজারি আছে কি না, বিক্রয়ে উল্লিখিত দাগ, খতিয়ান, নকশা ঠিক আছে কি না এবং সর্বোপরি সরেজমিনে বিক্রীত জমি আছে কি না তার খোঁজ পাওয়া যাবে। প্রয়োজনে ভূমি অফিস থেকে সার্ভেয়ার (আমিন) নিয়ে জমি মেপে জমি ক্রয় করতে হবে।

উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি ছাড়া সব সম্পত্তি বিক্রয় করার ক্ষেত্রে দাতার নামে নামজারি বাধ্যতামূলক। ২০০৪ সালের রেজিস্ট্রেশন আইন সংশোধনের পর মৌখিক দান বৈধ নয়।

জমি রেজিস্ট্রেশনের নিয়মকানুন সম্পর্কে জানাচ্ছেন ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার আবদুল কাইয়ুম ও ঢাকা সদর সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সালাম

লেখক: আবদুল কাইয়ুম, ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার।