পুঁজিবাজারে ১ টাকা বিনিয়োগে ৫০ পয়সা ঋণ নেওয়ার সুযোগ

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বিপরীতে ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকে। পুজিবাজারে কোন বিনিয়োগকারী একটাকা বিনিয়োগ করলে ৫০ পয়সা ঋণ নিতে পারে। এই ঋণ নেওয়ার সুযোগকে বলা হয় মার্জিণ ঋণ। মার্জিন ঋণ মার্জিন একাউন্ট থেকে নিতে হয়।

পুজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি)  নতুন নিয়মে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের অবস্থান যত কম হবে মার্জিন ঋণের সুযোগ ততো বাড়বে। সূচক যতো উপরের দিকে উঠতে থাকবে ঋণের সুযোগ ততো কমতে থাকবে।

মার্জিন অ্যাকাউন্ট হচ্ছে একটি ব্রোকারেজ অ্যাকাউন্ট যা কাস্টমারকে সিকিউরিটি ক্রয়ের জন্য লিভারেজ ব্যাবহারের সুযোগ প্রদান করে থাকে। এরমানে হচ্ছে যে অ্যাকাউন্ট হোল্ডার বিনিয়োগ করার জন্য ব্রোকার এর কাছ থেকে ঋণ নিতে পারবে। মার্জিনের নিয়ম সরকারীভাবে নিয়ন্ত্রিত, কিন্তু ব্রোকার এবং ডিলারের মধ্যে আবশ্যক মার্জিন এবং ইন্টেরেস্টে পার্থক্য দেখা যেতে পারে।

বেশীরভাগ ব্রোকার মার্জিন অ্যাকাউন্ট সেটআপ করার সুযোগ প্রদান করে থাকে এবং আপনাকে অনেক ক্রয়ক্ষমতা প্রদান করতে পারে যার মাধ্যমে ট্রেডারের পক্ষ হতে খুব বেশী অর্থ বিনিয়োগের আবশ্যকতা থাকে না। মার্জিন অ্যাকাউন্ট কীভাবে উপকারী হতে পারে তা বুঝতে, ধরে নিন যে একজন বিনিয়োগকারী যে ১০০০ টাকা দিয়ে স্টকের শেয়ার ক্রয় করলো, যারফলে স্টকের মার্কেট প্রাইস ১৫০০ তে গেল। এরজন্য তিনি যদি নগদ অর্থ প্রদান করে থাকেন, তাহলে তার বিনিয়োগের রিটার্ন হচ্ছে ৫০%, যা ভালো পরিমানের লাভ। কিন্তু, সে যদি ৫০০ টাকা নগদ প্রদান করে থাকেন এবং ৫০০ টাকা মার্জিন হিসেবে ধার নিয়ে থাকে, তাহলে তার রিটার্ন হচ্ছে ১০০%। তাকে এখনো ধার করা অর্থ ফেরত দিতে হবে, কিন্তু কয়েকটি ক্রয়ের মাধ্যমে ধারকৃত মার্জিনকে ছড়িয়ে, সে তার লাভ বাড়াবে, যতক্ষণ পর্যন্ত স্টকের প্রাইস উপরে যেতে থাকবে।

মার্জিন ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমত ডিএসইএক্স ৪ হাজার পয়েন্টের নিচে থাকলে বিনিয়োগের অনুপাতে দশমিক ৭৫ শতাংশ ঋণ নেওয়া যাবে। অর্থাৎ কারো ১ টাকার বিনিয়োগ থাকলে তিনি শেয়ার কিনতে আরও ৭৫ পয়সা ঋণ নিতে পারবেন। দ্বিতীয়ত ডিএসইএক্স ৪ হাজার থেকে ৭ হাজার পয়েন্টের মধ্যে থাকলে ৫০ শতাংশ মার্জিন ঋণ পাবেন বিনিয়োগকারী। অর্থাৎ ১ টাকার বিনিয়োগে ৫০ পয়সা ঋণ পাবেন। আর ডিএসইএক্স ৭ হাজার পয়েন্টের উপরে থাকলে শেয়ার কিনতে দশমিক ২৫ শতাংশ ঋণ নিতে পারবেন। অর্থাৎ ১ টাকার বিনিয়োগে ২৫ পয়সা ঋণ নেওয়ার সুযোগ। তবে এখন যেহেতু ডিএসইএক্স ৫ হাজারের কাছাকাছি রয়েছে তাই বিনিয়োগকারীরা এ ক্ষেত্রে ১ টাকা বিনিয়োগে ৫০ পয়সা ঋণ নিতে পারবেন।

মার্জিন অ্যাকাউন্টের সুবিধা ও অসুবিধা

মার্জিন অ্যাকাউন্ট ব্রোকার কতৃক অফার করা হয় যার মাধ্যমে বিনিয়োগকারী সিকিউরিটি ক্রয়ের জন্য ঋণ নিতে পারে। একজন বিনিয়োগকারী হয়তো ক্রয় মূল্যের ৫০% ব্যাবহার করতে পারে এবং বাকিটা ব্রোকারের কাছ থেকে ধার নিতে পারে। ঋণের অধিকারের জন্য ব্রোকার বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে ইন্টেরেস্ট ধার্য করতে পারে এবং সিকিউরিটিকে জামানত হিসেবে রাখতে পারে। কিন্তু, ভলাটাইল মার্কেটে, ব্রোকার আবার অ্যাকাউন্টের ভ্যালু ক্লোজের সময় গননা করতে পারে এবং তারপর পরবর্তী দিনগুলোতে রিয়েল-টাইমের ভিত্তিতে কল গননা করতে পারে। সঠিক পরিস্থিতিতে মার্জিন ঋণ অনেক বড় মূল্যবান ট্যুল হতে পারে, কিন্তু সতর্ক থাকবেন যে এটা আপনার লাভ ও লস দুটোই বাড়িয়ে দিতে পারে।

যখন আপনার অ্যাকাউন্টের ইকুইটি কমে যাবে এবং ব্রোকার নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ মার্জিন সীমার নিচে চলে যাবে, তাদের ’মার্জিন কল’ জারি করার অধিকার থাকে। মার্জিন কল বলে যে আপনার ব্রোকার হয় আপনার পজিশন আপনার সম্মতি ছাড়াই সেল করে দিতে পারে যাতে তারা তাদের বিনিয়োগের ঝুঁকি ফেরত পেতে পারে, অথবা তারা আপনাকে আপনার অ্যাকাউন্টে আরও মূলধন বিনিয়োগ করতে বলতে পারে যাতে আপনি আপনার রক্ষণাবেক্ষণ মার্জিনের সীমার ওপর ফেরত আসতে পারেন।

মার্জিনে বাই করাটা সাধারনত শর্ট-টার্মে বিনিয়োগের জন্য ব্যাবহার করা হয় ইন্টেরেস্ট চার্জের কারনে। মার্জিন ভালোভাবে কাজ করে যখন বিনিয়োগের মূল্য বাড়তে থাকে কিন্তু যখন মূল্য কমতে থাকে তখন অসমর্থকরণ হতে পারে। এজন্য মার্জিন অ্যাকাউন্ট বাস্তবধর্মী বিনিয়োগকারীদের জন্য মানানসই যারা বিনিয়োগের ঝুঁকি এবং চাহিদা সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন।

মার্জিন লোন নিয়ে শেয়ার ব্যবসা করলে কতটুকু ক্ষতি এবং কি কি সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে-

১। মার্জিন লোন নিয়ে কেনা শেয়ার যদি কোন কারনে দাম কমে যায়, তাহলে ক্ষতি অনেক বেশি হয়। যা বিনিয়োগকারীর ইক্যুইটি অনেক বেশী কমিয়ে দেয়, যার উদাহরন টেবিলের মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে।

২। মার্জিন লোনের জন্য বিনিয়োগকারীকে বাৎসরিক প্রায় ১৩.৫% সুদ দিতে হয়। অর্থাৎ মার্জিন লোনের জন্য বিনিয়োগকারীকে এর থেকে বেশি লাভ করতে হবে, যা প্রায় দুঃসাধ্য।

৩। মার্জিন লোনের জন্য বিনিয়োগকারীর ইক্যুইটি মাইনাসও হয়ে জেতে পারে। সেক্ষেত্রে বিনিয়গকারীকে অন্য সোর্স থেকে টাকা নিয়ে এসে লোন পরিশোধ করতে হবে।