যেভাবে জমা দেবেন আয়কর রিটার্ন

কোনো ব্যক্তি করদাতার আয় যদি বছরে ৩ লাখ টাকার বেশি থাকে তবে তাকে রিটার্ণ দাখিল করতে হবে। মহিলা ও ৬৫ বছর বয়সোর্ধ্ব নাগরিকের ক্ষেত্রে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে ৪ লাখ টাকা এবং গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের আয় ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকার বেশি হলে রিটার্ন দিতে হবে।

কর রিটার্ণ জমা দিতে যেসব কাগজপত্র লাগবে

করদাতা চাকরিজীবী হলে বেতন বিবরণী, ব্যাংক সুদ থেকে আয় হলে তার বিবরণী বা সার্টিফিকেট, বিনিয়োগ থাকলে তার স্বপক্ষে প্রমাণাদি (সঞ্চয়পত্রের সার্টিফিকেট, জীবন বীমার পলিসি থাকলে প্রিমিয়ামের ফটোকপি, বন্ড বা ডিবেঞ্চারের ফটোকপি) জমা দিতে হবে।

গৃহসম্পত্তি খাতে বা বাড়ি ভাড়া থেকে আয় হলে ভাড়ার চুক্তিনামা বা রসিদের কপি এবং প্রাপ্ত জমাসংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবের বিবরণী; পৌর কর, সিটি কর্পোরেশন কর দেয়ার রসিদের কপি; ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে বাড়ি কেনা বা নির্মাণ করা হলে ঋণের সুদের সমর্থনে ব্যাংক সার্টিফিকেট, গৃহসম্পত্তির বীমা করা থাকলে বীমার প্রিমিয়ামের রসিদের কপি রিটার্নের সঙ্গে দিতে হবে। অন্য উৎস থেকে আয় থাকলে তার স্বপক্ষে কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এছাড়া প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা অথবা ওয়ার্ড কমিশনার অথবা যে কোনো টিআইএনধারী করদাতার দ্বারা সত্যায়িত করা ছবি লাগবে।

যেভাবে রিটার্ণ জমা দেবেন

সাধারণ এবং সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করার নিয়ম রয়েছে। সাধারণ পদ্ধতিতে রিটার্ন জমা দিলে কর অফিসের দেয়া প্রাপ্তি স্বীকারপত্রটি কর নির্ধারণী আদেশ হিসেবে গণ্য হয় না। রিটার্ন দাখিলের পর উপ কর কমিশনার কর নির্ধারণ করে থাকেন। পক্ষান্তরে সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন জমার ক্ষেত্রে করদাতা নিজেই নিজের আয় নিরূপণ করে কর পরিশোধ করতে পারেন। এক্ষেত্রে করদাতাকে রিটার্ন জমার পর যে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র দেয়া হয় সেটিই কর নির্ধারণী আদেশ হিসেবে গণ্য করা হয়।

বর্তমানে বেশিরভাগ ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাই সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন জমা দেন। তবে করদাতার ১২ ডিজিটের টিআইএন না থাকলে সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করার সুযোগ নেই। তাছাড়া মোট আয়ের ওপর প্রযোজ্য সব আয়কর এবং সারচার্জ পরিশোধ করা না হলে অথবা ৩০ নভেম্বর তারিখের মধ্যে অথবা বর্ধিত সময়ের মধ্যে দাখিল করা না হলে করদাতার রিটার্ন সার্বজনীনের আওতায় পড়বে না।

যেভাবে কর পরিশোধ করবেন

ট্রেজারি চালান, পে-অর্ডার, ব্যাংক ড্রাফট ও অ্যাকাউন্ট পে চেকের মাধ্যমে করদাতা নিজ কর অঞ্চলের অর্থনৈতিক কোডে টাকা জমা দিয়ে কর পরিশোধ করা যায়। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়কর ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারবেন করদাতা। তবে এর বেশি আয়কর পরিশোধ করতে চাইলে পে-অর্ডার, ব্যাংক ড্রাফট, অ্যাকাউন্ট পে চেক ব্যবহার করতে হবে।