ঘরে বসেই ব্যাংকিং, পাওয়া যাচ্ছে ঋণ

করোনার এই সময়ে বিভিন্ন ব্যাংক গ্রাহকের সুবিধার জন্য চালু করেছে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের নানা সুবিধা। বিমাযুক্ত আমানত পণ্য চালু, সহজে অনলাইনে টাকা ট্রান্সফার, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, অনলাইনে কেনাকাটাসহ বিশেষ কিছু নতুন পদ্ধতি যুক্ত হয়েছে দেশের কিছু ব্যাংকে। জেনে নেয়া যাক সে সব বিষয়।

সিটি ব্যাংক:

সিটি ব্যাংক চালু করেছে তাৎক্ষণিক ডিজিটাল লেনদেন। বিক্যাশের মাধ্যমে এই লেনদেন করতে পারবেন গ্রাহকরা। এটিকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু করা হয়েছে। বিকাশ লেনদেন প্রতিবেদন ও ব্যবহারের ধরন দেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ঠিক করছে গ্রাহক ঋণ পাওয়ার যোগ্য কি না। এই ঋণ পেতে কোনো নথিপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন পড়ছে না। শুধু বিকাশ অ্যাপে ক্লিক করে ঋণ আবেদন করতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে সিটি ব্যাংকের জামানতবিহীন এই ডিজিটাল ঋণ চালু হয়েছে। এর সুদহার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। তিন কিস্তিতে বিকাশ থেকেই এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

পাশাপাশি ব্যাংকটি বিভিন্ন দেশীয় ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের পরিবেশকদের জন্য ঘরে বসে চলতি মূলধন ঋণের আবেদনের জন্য নতুন অ্যাপস চালু করেছে। ব্যাংকটি ইউনিলিভার, এসিআই, স্কয়ার, রবি, প্রাণ, আরএফএল, বিকাশ, গ্রামীণফোন, বাজাজ, সিনজেনটাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫০০ পরিবেশকের সঙ্গে কাজ করে। এ খাতে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ঋণও আছে। এর ফলে পরিবেশকেরা ঋণের প্রয়োজন হলে অ্যাপসে আবেদন করতে পারবেন। ঋণ অনুমোদন হলে টাকা হিসাবে চলে যাবে।

ঢাকা ব্যাংকের দুই সেবা

ঘরে বসে লেনদেনের সুযোগ দিতে দুটি উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা ব্যাংক। এর মধ্যে দুটি সেবাই বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে নতুন। গত জুনে ব্যাংকটি ঘরে বসে অনলাইনে হিসাব খোলার সুবিধা চালু করে। অনলাইনে হিসাব খুললে ব্যাংকটি বাসায় পৌঁছে দিচ্ছে বিনা মূল্যে এটিএম কার্ড ও চেক বই। ব্যাংকটির প্রতিনিধি নতুন গ্রাহকদের বাসায় গিয়ে হিসাব খোলার ফরমে স্বাক্ষর সংগ্রহ করে আনছে। এভাবে প্রায় ৫০০ নতুন হিসাব খুলেছে ব্যাংকটি।

আবার গত সপ্তাহে ব্যাংকটি হোয়াটসঅ্যাপে ব্যাংকিং সেবা দেওয়া শুরু করেছে। যাঁদের ব্যাংকে হিসাব আছে, তাঁরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যেকোনো অঙ্কের টাকা স্থানান্তর, পরিষেবা বিল পরিশোধ, বিকাশে টাকা স্থানান্তর, জমা টাকার পরিমাণ জানাসহ আরও নানা সেবা নিতে পারছেন। ব্যাংকটির সব গ্রাহক এ সুযোগ পাচ্ছেন।

সোনালীর ই-সেবা

রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক গত মাসের শুরুতে ‘সোনালী ই-সেবা’ নামের নতুন অ্যাপস চালু করেছে। এর ফলে মুঠোফোন অ্যাপসের মাধ্যমে দুই মিনিটে ঘরে বসেই খোলা যাচ্ছে নতুন হিসাব। আর এই অ্যাপস থেকে টাকা স্থানান্তর, বিল পরিশোধ, সরকারি ভাতা ও ভর্তুকি গ্রহণসহ ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের সব সুবিধা মিলছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে দুই মাসে প্রায় ৩০ হাজার নতুন গ্রাহক তৈরি করেছে ব্যাংকটি। এদিকে ব্যাংকটি তার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসর ভাতা পাঠানো শুরু করেছে। ব্যাংকটি নতুন করে একটি লেনদেন অ্যাপ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে যে কেউ লেনদেনের সুযোগ পাবেন বলে জানা গেছে।

ইবিএলের ক্যাশলেস পে

অনলাইন কেনাকাটায় হোম ডেলিভারি নেটওয়ার্ক পেপারফ্লাইয়ে ডিজিটাল মূল্য পরিশোধ ব্যবস্থা ‘ক্যাশলেস পে’ সেবা শুরু করেছে ইস্টার্ণ ব্যাংক। অনলাইন আদেশে ক্রেতাদের দোরগোড়ায় পণ্য পৌঁছানোর সময় নগদ অর্থের পরিবর্তে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মূল্য পরিশোধ করা যাচ্ছে। মাস্টারকার্ডের সহায়তায় এই সেবা নিশ্চিত করছে পেপারফ্লাই। এ জন্য কোনো পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) মেশিনের প্রয়োজন হচ্ছে না।

এমটিবির গ্রিন পিন

গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) চালু করেছে ‘গ্রিন পিন’। এর মাধ্যমে ডেবিট কার্ডের পিনের জন্য ব্যাংক থেকে নথিপত্র পাঠানো হচ্ছে না। কলসেন্টারের মাধ্যমে গ্রাহকেরা নিজেই নিরাপত্তা পিন যুক্ত করতে পারছেন। এ ছাড়া ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবার পিনও একই মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি করোনার কারণে বিমাযুক্ত আমানত পণ্য চালু করেছে ব্যাংকটি।

ট্রাস্টের মানি অ্যাপ ও অন্যান্য

গ্রাহকদের ঘরে বসে সেবা নিতে ট্রাস্ট মোবাইল মানি অ্যাপ চালু করছে ট্রাস্ট ব্যাংক। ব্যাংকটির এমডি ফারুক মঈনউদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, নগদ টাকা ছাড়া এই অ্যাপের মাধ্যমে সব সেবা পাবেন গ্রাহকেরা। ঈদের পরই নতুন এ সেবা চালু করা হবে।

শুধু ব্যাংকগুলো নয়, মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এই সময়ে নতুন সেবা চালু করেছে। এখন যেকোনো ব্যাংকের ভিসা ও মাস্টারকার্ড থেকে টাকা আনা যাচ্ছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন সেবা ‘নগদ’ হিসাবে। তাই যেসব নগদ গ্রাহকের ভিসা বা মাস্টারকার্ড রয়েছে, তাঁদের নিজেদের নগদ হিসাবে টাকা জমার জন্য আর এজেন্টের কাছে যেতে হচ্ছে না। ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড—এই তিন ধরনের কার্ড থেকে যেকোনো সময় নগদ হিসাবে টাকা আনা যাচ্ছে।