আয়কর দিলে কি আবার সারচার্জও দিতে হবে?

করব্যবস্থায় গতিশীলতা আনতে সারচার্জ আরোপ করা হয়। যাঁরা যত বেশি ধনী, তাঁদের বেশি কর দিতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, সারচার্জ সম্পদের পরিমাণের ওপর বসবে না। ওই করদাতা যত কর দেবেন, ওই করের ওপর সারচার্জ বসবে।

আপনার নীট সম্পদের (মোট সম্পদ – মোট দায়) পরিমাণ যদি ৩ কোটি টাকার অধিক হয়, তাহলে আয়কর তো দিবেনই, সাথে সারচার্জও দিতে হবে। তবে এই বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া স্বত্ত্বেও যদি আপনার করযোগ্য আয় না থাকে, তাহলে অবশ্য কোনো সারচার্জ দিতে হবেনা।

নীট সম্পদের পরিমাণ যত বেশী হবে, সারচার্জের পরিমানও শতকরা হিসাবে (আয়করের উপর) বাড়তে থাকবে।

১) নীট সম্পদ ৩.০০ কোটি পর্যন্ত –শূন্য;

২) নীট সম্পদ ৩.০০ কোটির বেশী কিন্তু ৫ কোটির বেশী নয় — ১০% (আয়করের উপর);

৩) নীট সম্পদ ৫ কোটির বেশী কিন্তু ১০ কোটির বেশী নয় — ১৫% (আয়করের উপর);

৪) নীট সম্পদ ১০ কোটির বেশী কিন্তু ১৫ কোটির বেশী নয় — ২০% (আয়করের উপর);

৫) নীট সম্পদ ১৫ কোটির বেশী কিন্তু ২০ কোটির বেশী নয় — ২৫% (আয়করের উপর);

৬) নীট সম্পদ ২০ কোটির উপর যেকোনো অংকের জন্য — ৩০% (আয়করের উপর)।

ধরা যাক, আপনার আয়কর এসেছে ৭৫ হাজার টাকা এবং আপনার নীট সম্পদের পরিমাণ ১১ কোটি টাকা। তাহলে ৭৫ হাজার আয়কর দিবেন, সাথে সারচার্জ দিবেন ১৫ হাজার টাকা (৭৫ হাজার টাকার ২০%)।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে, আপনার নীট সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি টাকা অতিক্রম করলে আপনার প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ ৩ হাজার টাকার কম হলেও আপনাকে ন্যূনতম ৩ হাজার টাকা সারচার্জ দিতেই হবে।