কম টাকার লাভজনক ৩৫ ব্যাবসা, যা শুরু করতে পারবেন আজই

ব্যবসা করতে গেলে প্রয়োজন টাকা, সেই আদিকাল থেকেই এই ধারণা প্রচলিত। আমরা সকলেই নানা সময়ে শুনে এসেছি, বড় রকমের মূলধন জোগাড় করতে না পারলে নাকি ব্যবসায় নামাই উচিত্ না।

সত্যিই কী তাই? নাকি উদ্ভাবনী, দক্ষতা, শ্রম আর সৃজনশীলতা দিয়ে নেহাতই অল্প টাকায় ব্যবসা শুরু করা সম্ভব?

আজ এরকমই অল্প পুঁজিতে লাভজনক ছোট ব্যবসার আইডিয়া দেব আমরা। এই ছোট ব্যবসাগুলির মধ্যে থেকে নিজের পছন্দ, আগ্রহ ও দক্ষতা অনুযায়ী কোনও একটি বেছে নিয়ে আপনিও কম টাকায় লাভজনক ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

অল্প পুঁজিতে ব্যবসা করার উপায় বাতলাতেই এই তালিকা তৈরি করেছি আমরা। রয়েছে অনলাইন ব্যবসা আইডিয়া থেকে প্রচলিত ক্ষুদ্র ব্যবসা সহ স্বল্প মূলধনে ব্যবসা শুরুর নানান সুলুক সন্ধান।

অল্প টাকায় লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া

১. ফাস্টফুড ডেলিভারি

ভোজনরসিক বাঙালির রসনা তৃপ্ত করতে পারলে ব্যবসার অভাব হয় না। অল্প টাকায় ব্যবসা শুরু করতে হলে নিজের বাড়ি থেকেই ব্যবসা করুন। প্রয়োজন একটা রান্নাঘর, ভাল রান্নার কারিগর আর সুস্বাদু রেসিপি।

বর্তমানের জোম্যাটো সুইগির যুগে খাবার পৌঁছে দেওয়া নিয়েও আর ভাবতে হবে না আপনাকে। আপনার কাজ শুধু খাবার অর্ডার নেওয়া আর সেই মতো খাবার প্রস্তুত করা। তবে মনে রাখতে হবে কলকাতাসহ বাংলার বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে হাজারো খাবারের দোকান, তাই তাদের সাথে পাল্লা দিতে খাবারের গুণমান ও স্বাদের দিকে রাখতে হবে কড়া নজর আর নজর দিতে হবে অভিনব নতুন রেসিপিতে। দেশ বিদেশের নানা রেসিপি থেকে পেতে পারেন আইডিয়া।

২. ক্যাফে/কফিশপ 

ক্যাফে বা কফিশপের চাহিদা ক্রমশই বাড়ছে কলকাতা, শহততলি আর মফস্বলে। সঠিক কৌশল আর পরিকল্পনা নিয়ে চলতে পারলে এটি বর্তমানে সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসার একটি। অল্প টাকায় ব্যবসা শুরু সম্ভব

এর জন্য প্রয়োজন একটি ঘর, তা হতে পারে আপনার বাড়ির গ্যারাজও অথবা ঘর ভাড়া করতে পারেন একটি জমজমাট এলাকায়। ঠিক মতো প্রচার করতে পারলে সব সময়ে বড় রাস্তার ওপর হওয়ারও প্রয়োজন নেই।

ক্যাফের ইন্টিরিয়রের দিকে নজর দিন, ক্রেতাকে আকর্ষণ করার অন্যতম মূল চাবিকাঠি নজরকাড়া ইন্টিরিয়র আর আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা। দরকার নেই দামি চেয়ার টেবিল, কিছু বেতের মোড়া বা বড় জলচৌকি দিয়েও কাজ চলে যাবে যদি তা ঠিকভাবে সাজাতে পারেন।

পাশাপাশিই চমক রাখুন খাবারের মেনুতে, দাম রাখুন মধ্যবিত্তের আয়ত্ত্বের মধ্যে। এক্ষেত্রেও খাবারের মেনুর জন্য দেখতে পারেন বিদেশি রেসিপি। প্রচলিত চাইনিজ্, থাই খাবারের বাইরে রাখুন নতুন ধরণের খাবার।

পাশাপাশিই রাখতে পারেন কফি মগ বা অন্যান্য খুচরো গিফ্ট আইটেম বিক্রির ব্যবস্থা। ক্রেতাদের বসে পড়ার জন্য রাখতে পারেন কিছু বইও। এছাড়াও সপ্তাহান্তে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাও করতে পারেন।

অল্প টাকায় ব্যবসা শুরু করতে চাইলে ঠিক মতো পরিকল্পনা করে নেমে পড়ুন, সাফল্য আসবে।

৩. ক্যাটারিং 
আরেকটি অন্যতম বেশি লাভের ব্যবসা হল ক্যাটারিংয়ের ব্যবসা। বিয়েবাড়ি থেকে অফিসের বার্ষিক সম্মেলন ক্যাটারিয়ের চাহিদা সর্বত্র। বড় শহর হোক বা মফস্বল, উত্সবে অনুষ্ঠানে যেকোনও জায়গাতেই ডাক পড়ে ক্যাটারারদের।

অল্প টাকায় ব্যবসা শুরু করতে হলে এই ব্যবসার কথা ভেবে দেখতে পারেন। ব্যবসা শুরু করতে প্রথমেই প্রয়োজন একটা নির্ভরযোগ্য টিম। সন্তোষজনক পরিষেবাই এই ব্যবসার মূল, তাই আপনার টিম হতে হবে পরিশ্রমী, হাসিখুশি ও নির্ভরযোগ্য। এছাড়া কিনতে হবে প্রয়োজনীয় বাসনপত্র, গ্যাস উনুন ইত্যাদি।

বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি। তাই এক বা একাধিক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলে বাড়তে পারে ব্যবসা।

৪. ট্রাভেল আর ট্যুরিজম

ভোজনরসিক হওয়ার পাশাপাশি বাঙালি ভ্রমণপিপাসুও বটে, ফলে মানুষকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া কম খরচে লাভের ব্যবসা।

অল্প টাকায় ব্যবসার কথা ভাবলে এটিই হতে পারে আপনার জন্য সবথেকে সহজ উপায়। এই ব্যবসা শুরু করতে বিনিয়োগ বিশেষ লাগে না, লাগে শ্রম, অধ্যাবসায়, আর বেড়ানোর প্যাশন। টিকিট কাটা, হোটেল বুকিং, বেড়ানোর পরিকল্পনা তৈরি ইত্যাদি ঝক্কি এড়াতে অনেকই ভরসা করেন বিভিন্ন এজেন্সির ওপর। সন্তোষজনক অভিজ্ঞতা হলে তাঁরাই ফিরে ফিরে আসেন প্রতিবছর।

এই ব্যবসা শুরু করতে প্রথমেই ঠিক করে নিতে হবে বেড়ানোর জায়গা। কীধরণের জায়গায় নিয়ে যেতে চান, কোন ধরণের হোটেলে রাখবেন পরিকল্পনা করে নিতে হবে গোটাটা। বিভিন্ন সামাজিক অর্থনৈতিক অবস্থার মানুষের চাহিদা বিভিন্নরকম, আপনি কাদের পরিষেবা দিতে চান ঠিক করে নিতে হবে সেই বিষয়।

এই ব্যবসায় বিনা বিনিয়োগে আয় করা সম্ভব। নতুন নতুন জায়গা খুঁজে বের করলে ব্যবসা বাড়ার সম্ভাবনা বেশি, পাশাপাশিই জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট স্পটগুলোকেও রাখতে পারেন তালিকায়। সেইসব জায়গাগুলোর হোটেলের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করে নিন কত শতাংশ ছাড় বা এজেন্ট কমিশন দিতে প্রস্তুত তারা।

পাশাপাশিই বেড়াতে নিয়ে গিয়ে খাওয়ানোর ব্যবস্থা কী করবেন সেই নিয়েও ভাবনাচিন্তা করুন। হোটেলের খাবার না নিয়ে নিজেরা খাবার ব্যবস্থা করলে লাভ বেশি হবে। সেইমতো জোগাড়যন্ত্র করে এগোন।

৫. রেল ও বিমানের টিকিট বুকিং

অনলাইনে টিকিট কাটার সুবিধা থাকলেও অনেক সময়েই টিকিট পেতে সমস্যায় পড়েন যাত্রীরা। দূরপাল্লার রেলে রিজার্ভেশন পাওয়া নিয়ে নাজেহাল হতে হয় যাত্রীদের। আর তার জন্য প্রায়শই বুকিং এজেন্টদের মুখাপেক্ষী হন তারা। কম পুঁজিতেই এই ব্যবসা শুরু করা সম্ভব।

এজেন্ট হওয়ার জন্য রেল বা বিমান কর্তৃপক্ষকে কিছু টাকা দিতে হয় তাহলেই পাওয়া যায় সুযোগ। বিভিন্ন ট্যুর অপারেটর কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে নিলে নিয়মিত ব্যবসা পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশিই চুক্তি করা যেতে পারে অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে যাতে সেই সংস্থার কর্মীদের অফিসের কাজে বাইরে যাওয়ার জন্য যাবতীয় টিকিট বুকের দায়িত্ব পান আপনি।

অনেক সংস্থাতেই কর্মীদের নিয়মিত শহর বা দেশের বাইরে যেতে হয় এবং এই টিকিট বুক করার জন্য কোনও নির্দিষ্ট কর্মী থাকে না, এই পরিষেবার জন্য বাইরের এজেন্টের ওপরই নির্ভর করে তারা। এই ব্যবসায় লাভ করতে হলে নিশ্চিত করতে হবে কম সময়ের মধ্যে যাতে আপনি প্রয়োজনীয় টিকিট বুক করে দিতে পারেন। তা পারলেই আপনার ওপর ভরসা বাড়বে ক্রেতার।

৬. ট্রেকিং এজেন্সি ও ট্রেকিং গিয়ার ভাড়া

মূলতঃ ট্রাভেল এজেন্সি হলেও এই ব্যবসার ধরণ, গ্রাহক, প্রয়োজনীয় দক্ষতা ইত্যাদি অনেকটাই আলাদা। আপনার যদি নিজের পর্যাপ্ত ট্রেকিংয়ের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা থাকে তবেই ভাবুন এই ব্যবসা শুরুর কথা। পাশাপাশি দরকার পাহাড়ের প্রতি ভালবাসা ও প্যাশন।

ট্রেকিং এজেন্সিও একটি অল্পপুঁজিতে লাভজনক ব্যবসা। কারণ ট্রেকিংয়ের জন্য অনেকেই এখন ভরসা করেন এজেন্সির ওপর।

বিভিন্ন ট্রেকিং রুটের হালহকিকত্ জানা এই ব্যবসা শুরুর পূর্বশর্ত। জানা শোনা থাকতে হবে স্থানীয় গাইড ও অন্যান্য মানুষের সঙ্গেও। নিজের বন্ধু বান্ধব পরিচিতদের নিয়ে যাওয়া দিয়েই শুরু করতে পারেন। সতর্কভাবে পুরোটা পরিকল্পনা করে নিতে হবে আগে।

একবার ট্রেক শুরু করার পর কোনও ভুল শোধরানোর সুযোগ পাবেন না। ফলে যাত্রা শুরুর আগেই নিশ্চিত করে নিতে হবে প্রয়োজনীয় প্রতিটি বিষয়ে ঠিকমতো খেয়াল করেছেন। সামান্য অসাবধানতা এক্ষেত্রে মারাত্মক প্রমাণিত হতে পারে।

এর পাশাপাশি ট্রেকিংয়ে প্রয়োজনীয় যাবতীয় জিনিস বিক্রি ও ভাড়া দেওয়ার ব্যবসাও শুরু করতে পারেন। তাঁবু, স্লিপিং ব্যাগ, ম্যাট্রেস সহ একাধিক জিনিস প্রয়োজন পড়ে ট্রেকারদের, বছরে একবার যাওয়ার জন্য বেশিরভাগই এগুলো না কিনে ভাড়া করে নিয়ে যাওয়াই সহজ মনে করেন।

অল্প পুঁজিতে আপনি কিনে নিতে পারেন কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস, ব্যবহার করতে পারেন নিজের এজেন্সির কাজে বা ভাড়া দিতে পারেন অন্য ট্রেকারদের। এছাড়াও যদি ট্রেকিং শ্যু, জ্যাকেট, রুকস্যাক ইত্যাদি তৈরি করে বিক্রি করতে পারেন তাও হতে পারে লাভজনক বিজনেস।

৭. ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট

ছোট বড় বিভিন্ন সংস্থা তাদের নানা অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব দেয় ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলিকে। অত্যন্ত অল্প টাকায় ব্যবসা শুরু করা সম্ভব।

এই ব্যবসার জন্য প্রয়োজন দক্ষতা, পরিশ্রম, প্রত্যুত্পন্নমতিত্ব আর যোগাযোগ তৈরির ক্ষমতা। কাজের মাধ্যমেই নিজের কোম্পানিকে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ করতে হবে, তাহলেই মিলবে নতুন কাজ।

শুরু করুন ছোট ইভেন্ট দিয়ে পরে ধীরে ধীরে নতুন নতুন যোগাযোগ তৈরি করে ব্যবসা বাড়ান। কোন ধরণের ইভেন্ট আয়োজন করতে আপনি সবথেকে বেশি সাচ্ছন্দবোধ করেন তা চিহ্নিত করুন এবং সেই অনুযায়ী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগ বাড়ার সাথে সাথে নতুন ধরণের ইভেন্টে হাত দিন।

৮. ব্লগ লেখা

ঘরে বসে ব্যবসা করার অন্যমত সহজ উপায় ব্লগ লেখা। গত এক দশকে পৃথিবীজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে এই ব্যবসা।

এই ব্যবসার জন্য প্রথমেই বেছে নিতে হবে আপনার পছন্দের বিষয়টি। এমন বিষয় বাছুন যা সময়ের সাথে সাথে অচল হয়ে যাবে না। বিষয়টি সম্পর্কে অবশ্যই আপনার জ্ঞান ও আগ্রহ থাকা প্রয়োজন, না হলে বেশিদিন চালিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবেনা।

পাশাপাশি দরকার ভাষার ওপর দখল ও লিখতে পারার ক্ষমতা। ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই সবথেকে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছনো সম্ভব, কিন্তু বর্তমানে আঞ্চলিক ভাষার ব্লগের চাহিদাও বাড়ছে। অনেকেই অনলাইনে মাতৃভাষায় পড়তে পছন্দ করেন।

ব্লগটির মাধ্যমে আপনি কোন পাঠকের কাছে পৌঁছতে চাইছেন সে বিষয় পরিষ্কার ধারণা থাকা আবশ্যিক। ব্লগের ভাষার ধরণ ও রচনা শৈলী নির্ভর করবে তার ওপর। অনলাইনে বিনামূল্যে ব্লগ তৈরির বিভিন্ন গাইড সহজেই পাওয়া যায়। কীভাবে খুব সহজেই ব্লগ তৈরি করবেন জানতে এখানে ক্লিক করুন।

ব্লগ তৈরির পর সেটা থেকে কীভাবে টাকা রোজগার করবেন সে বিষয় সিদ্ধান্ত নিন ও সেই মতো বিজ্ঞাপন প্রোগ্রামে সাইন আপ করুন। অর্থাত্ আপনা ব্লগে বিজ্ঞাপনদাতারা বিজ্ঞাপন দেবেন, বিনিময় আপনি টাকা পাবেন। আয় নির্ভর করে আপনার ব্লগের ট্রাফিকের ওপর। ব্লগ থেকে আয় থেকে বিস্তারিত জানতে এইখানে ক্লিক করুন। নিয়মিত লিখতে থাকুন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিন আপনার লেখা, ধীরে ধীরে পাঠক বাড়বে। আর পাঠক বাড়লেই বিজ্ঞাপন থেকে বেশি আয় হবে।

৯. সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট

সামাজিক মাধ্যমের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন কোম্পানি গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন ও বিজ্ঞাপনের জন্য বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নির্ভর করছে। আর এই কাজের জন্য তাদের প্রয়োজন হয় সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের কাজ জানা দক্ষ কর্মী।

অনেক ক্ষেত্রেই সর্বক্ষণের কর্মী নিয়োগ না করে এই কাজের জন্য বাইরের সংস্থা বা কর্মীর ওপর নির্ভর করে কোম্পানিগুলি। তাই আপনি যদি এই কাজে যথেষ্ট দক্ষতা অর্জন করতে পারেন তাহলে ঘরে বসে ব্যবসা করেই আপনি রোজগার করতে পারবেন।

১০. ওয়েব ডিজাইনিং

ইন্টারনেটের প্রসারে সাথে সাথেই বাড়ছে ডোমেন আর হোস্টিং পরিষেবার চাহিদা। বর্তমানে ছোট বড় প্রায় সব কোম্পানির জন্যই অনলাইন উপস্থিতি প্রায় বাধ্যতামূলক। প্রত্যেককে তৈরি করতে হয় নিজের ওয়েবসাইট। ওয়েবসাইট তৈরি থেকে ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রতিটি ক্ষেত্রেই কোম্পানিরা সাধারণত নির্ভর করে বাইরের সংস্থার ওপর। খুব সহজেই এই কাজ শিখে নিয়ে অল্প পুঁজিতে শুরু করুন এই ব্যবসা।

১১. অনুবাদের ব্যবসা

মিডিয়া ও বিনোদনের দুনিয়া থেকে সরকারী নথি, অনুবাদকের প্রয়োজন সর্বত্র। আপনার যদি অন্ততঃ দুটি ভাষায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা থাকে তাহলে পেতে পারেন এই কাজ। পাশাপাশিই আরও অন্যান্য ভাষার অনুবাদকদের যোগাযোগ করে যদি একটা দল তৈরি করে ফেলতে পারেন তাহলে এজেন্সিও খুলতে পারেন।

ইন্টারনেটে ব্যবসার একটি সহজ উপায় অনুবাদ ও ইন্টারপ্রিটেশন। অনলাইনেই মিলবে হাল হদিশ। সঙ্গে অন্য কোনও বিদেশি ভাষা জানা থাকলে মিলতে পারে বাড়তি সুযোগ, তবে মনে রাখতে হবে বিশ্বের বিভিন্ন অনুবাদ সংস্থা সাধারণত তাদের দিয়েই অনুবাদ করাতে চায় যাদের মাতৃভাষার মতো দখল রয়েছে সেই ভাষায়। আপনি যদি কোনও বিদেশি ভাষায় অনুবাদ করতে চান, তাহলে সেই স্তরের দক্ষতা অর্জন করা জরুরি।

১২. লেখা ও সম্পাদনা

কোনও ভাষায় লেখার দক্ষতা থাকলে আরও যে অনলাইন ব্যবসা আপনি করতে পারেন তা হল লেখা ও সম্পাদনা।

বিভিন্ন ওয়েবসাইটে নানা বিষয়ের ওপর রোজ শয়ে শয়ে প্রবন্ধ লেখা হয়। এই লেখার নির্দিষ্ট কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। সার্চ ইঞ্জিনে যাতে আপনার লেখা বা ওয়েবসাইট প্রথমের দিকে আসে তার জন্য আয়ত্ত্ব করতে হয় সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কলা কৌশল। এছাড়াও আরও নানা ধরণের লেখালিখির কাজ পাওয়া সম্ভব অনলাইনে। পাওয়া যায় সম্পাদনা এবং প্রুফ রিডিংয়ের কাজও।

১৩. ইউটিউব চ্যানেল

অনলাইনে ব্যবসার আরও একটি সহজ উপায় হল ইউটিউব চ্যানেল, বিষয় হতে পারে যা খুশি। রান্না শেখানো থেকে বেড়ানো, গান থেকে দৈনন্দিনের টোটকা আপনার আগ্রহের যে কোনও বিষয় নিয়েই ইউটিউব চ্যানেল খুলতে পারেন আপনি।

যদি যথেষ্ট সংখ্যক দর্শক আপনার চ্যানেল বা আপলোড করা ভিডিওগুলো দেখে তাহলে বিজ্ঞাপন বাবদ টাকা পাবেন আপনি। তবে ভিডিওর ভিয়্যু সংখ্য বাড়াতে আপনাকে হতে হবে নিয়মিত ও অভিনব। যাতে অন্যান্য চ্যানেল বাদ দিয়ে আপনার চ্যানেল দেখে দর্শক। ভিডিওর গুণমানের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।

১৪. হস্তশিল্পের ব্যবসা

বাংলায় রয়েছে হস্তশিল্পের বিপুল সম্ভার। বিকনা আর দরিয়াপুরের ডোকরা, পিঙ্গলার পটচিত্র, নতুনগ্রামের পেঁচা, ঘুর্ণির মাটির পুতুল, মেদিনীপুরের মাদুর, কুচবিহারের শীতলপাটি. চড়িদার ছৌ মুখোশ রয়েছে হাজারো রকমের হস্তশিল্প। দেশ বিদেশের বাজারে চাহিদাও রয়েছে যথেষ্ট। নিজেদের দক্ষতা আর সৃজনীকে কাজে লাগিয়ে নানা নতুন ধরণের পণ্যও তৈরি করছেন এই সব গ্রামীণ শিল্পীরা। এই সমস্ত হস্তশিল্প নিয়ে অনলাইন বিজনেস করে নিয়মিত লাভ করা সম্ভব।

অল্পটাকায় ব্যবসা শুরু করতে হলে নানা ধরণের হস্তশিল্পের সামগ্রী সংগ্রহ করুন শিল্পীদের থেকে। আপনি নিজের মতো ডিজাইন দিয়েও জিনিস বানিয়ে নিতে পারেন।

১৫. গয়না বানানোর ব্যবসা

হাতের কাজ ও শিল্পে দক্ষতা থাকলে অল্প পুঁজিতে অন্যতম লাভজনক ব্যবসা গয়না বিক্রি। নানা উপাদান জোগাড় করে আপনি নিজেই বানিয়ে ফেলতে পারেন আধুনিক ও আকর্ষণীয় গয়না। প্রয়োজন সৃজনী ও উদ্ভাবনী। খুব কম খরচে লাভজনক ব্যবসা করা সম্ভব এই উপায়ে।

গয়না বিক্রি করতে পারেন অনলাইনে। নিজের পরিচিতদের মধ্যেও বিক্রির মধ্যে দিয়ে শুরু করতে পারেন আপনার ব্যবসা। অংশগ্রহণ করতে পারেন বিভিন্ন মেলা ও প্রদর্শনীতে। সাধারণের আয়ত্ত্বের মধ্যে দাম ও আকর্ষণীয় ডিজাইন রাখলে বিক্রি হবে দ্রুত।

১৬. অনলাইনে শাড়ি বিক্রি

বাড়ি বাড়ি গিয়ে শাড়ি বিক্রির ব্যবসা দীর্ঘদিনের। মহিলারা অল্প কিছু শাড়ি কিনে পরিচিতদের বাড়ি বা অফিস গিয়ে শাড়ি বিক্রি করেন বহুদিন ধরেই। সহজ কিস্তিতে টাকা দেওয়া, হাতের নাগালে সহজেই পছন্দ মতো শাড়ি পেয়ে যাওয়া ইত্যাদি কারণে কর্মরতা ব্যস্ত মহিলারা অনেক সময়ই নির্ভর করতেন এই শাড়ি বিক্রেতাদের ওপর। তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে এই ব্যবসারই খানিক আধুনিকীকরণ হয়েছে। শুধুমাত্র ফেসবুক বিজনেস ব্যবহার করেই কম খরচে লাভের ব্যবসা করছেন অনেকে।

বাংলাদেশের ঢাকাই থেকে লক্ষ্ণৌয়ের চিকন, বিভিন্ন জায়গা থেকে শাড়ি আনিয়ে অনলাইনে বিক্রি করে রমরম করে চলছে ব্যবসা। সঠিক পছন্দ আর ঠিক মতো ক্রেতার কাছে পৌঁছতে পারলে আপনিও খুব সহজেই অল্প টাকায় ব্যবসা করতে পারবেন।

১৭. পোশাক তৈরি ও দর্জির কাজ

পাড়ায় পাড়ায় দর্জির দোকান এক পুরনো ব্যবসা। অভিনব কাট ও ডিজাইনের পোশাক তৈরি করতে পারলে চাহিদা আছে যথেষ্ট। প্রচলিত ডিজাইনের পাশাপাশি তৈরি করুন অভিনব নক্সার ডিজাইন। অতিরিক্ত মূল্যের বিনিময় দ্রুত বানিয়ে দেওয়ার পরিষেবা দিলে চাহিদা বাড়বে। পুরুষ ও মহিলা চাহিদা রয়েছে উভয়ে ক্ষেত্রেই।

অল্প টাকায় ব্যবসা করতে চাইলে নিজের বাড়ি থেকেই করতে পারেন এই ব্যবসা। ক্রেতার বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাপ নেওয়া আর ডেলিভারি দেওয়ার ব্যবস্থা রাখুন।

১৮. বুটিক ও অনলাইনে পোশাক বিক্রি

অন্য সকলে যে ডিজাইনের পোশাক পরছে তার বাইরে গিয়ে নতুন ডিজাইনের পোশাক কিনতে পছন্দ করেন অনেক ক্রেতা। তার জন্য খানিক বেশি দাম দিতেও রাজি থাকেন এই সমস্ত ক্রেতা। এই ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করতেই তৈরি হচ্ছে একাধিক বুটিক। ক্রেতার পছন্দ বুঝে মনমতো পোশাক তৈরিই চ্যালেঞ্জ এই ব্যবসার। দোকানঘর ভাড়া করা সম্ভব নাহলে অনলাইনেও বিক্রি করতে পারেন এই পোশাক।

১৯. গৃহশিক্ষক ও কোচিং সেন্টার

শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে প্রায় প্রত্যেকেরই গৃহশিক্ষকের প্রয়োজন পড়ে। কোনও বিনিয়োগ ছাড়া আয় করা সম্ভব এই ব্যবসায়।

ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গৃহশিক্ষক আর ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে যোগাযোগ ঘটিয়ে দিয়ে করতে পারেন আয়। গৃহশিক্ষকরা আপনার ওয়েবসাইটে নাম নথিভুক্ত করবেন নিজেদের বিষয়, দক্ষতা আর শিক্ষাগত যোগ্যতা সহ। ছাত্রছাত্রী আর তাদের অভিভাবকরা জানাবেন তাদের চাহিদা। আর এই দুইয়ের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করবে আপনার সংস্থা।

এছাড়াও ঘর ভাড়া করে খুলে ফেলতে পারেন কোচিং সেন্টার। উপযুক্ত ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ করলে ছাত্রছাত্রী আসবে সাধারণভাবেই।

২০. অনলাইন শিক্ষকতা

ঘরে বসে আয় করার অন্যতম কার্যকরী উপায় হল অনলাইন শিক্ষকতা। তা যেমন পড়াশোনার কোনও নির্দিষ্ট কোর্স হতে পারে তেমনই হতে পারে গিটার শেখানো, যোগ ব্যয়াম শেখানো বা কোনও বিদেশি ভাষা শেখানো, শেখাতে পারেন নিজের ইউটিউব চ্যানেল খুলে বা অন্য কোনও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে।

২১. কাস্টমাইজড গিফ্ট বিক্রি

অল্প টাকায় ব্যবসা করার জন্য নিজের উদ্ভাবনী ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করে ফেলুন নতুন ধরণের উপহার সামগ্রী। ক্রেতার পছন্দ, চাহিদা ও ইচ্ছেমতো তাতে আনুন ব্যক্তিগত ছোঁয়া।

ফটোফ্রেম, টি-শার্ট আর কফিমগের বাইরে নতুন ধরণের উপহাত সামগ্রীর কথা ভাবতে পারেন। ক্রেতার নিজের মতো করে তা সাজিয়ে নেওয়ার সুযোগ রাখতে হবে। অনলাইনে ব্যবসা করতে পারেন বা নিতে পারেন কোনও ছোট দোকান ঘর। স্বল্প মূলধনের এই ব্যবসায় লাভ হবে ভালই।

২২. বেকারি

ঘরে বানানো তাজা কেক, পেস্ট্রি আর কুকিস্-এর চাহিদা রয়েছে বাজারে। কনফেকশনারির দোকানের বাইরে একেবারের ঘরের ওভেনে বানানো বেকারি সামগ্রীর স্বাদ আলাদা। আপনি যদি ভাল কেক বানাতে পারেন, নতুন নতুন স্বাদের কুকিস্ বানান, সাজাতে জানেন জন্মদিন বা বিবাহবার্ষিকীর কেক তাহলে আপনার এই শখকেই ব্যবসায় পরিণত করা সম্ভব। হবে কম খরচে লাভের ব্যবসা।

বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠানের জন্য বানান কাস্টমাইজড্ কেক। ইন্টারনেটে করতে পারেন এই ব্যবসা, ক্রেতার ঘরে সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।

২৩. ফটোগ্রাফি

ডিজিটাল প্রযুক্তি আসার সঙ্গে সঙ্গে ফটোগ্রাফির ব্যবসা হয়ে গেছে অনেক সহজ আর ঝক্কিহীন। স্টুডিও বা ডার্করুমের আর প্রয়োজন নেই। ভাল ডিএসএলআর ক্যামেরা আর একটা কম্প্যুটার থাকলেই শুরু করা যায় এই ব্যবসা। বিয়ে থেকে কর্পোরেট ইভেন্ট যেকোনও অনুষ্ঠানে ছবি তুলে হতে পারে ভাল আয়।

প্রথমেই বুঝে নিতে হবে ক্রেতার পছন্দ ও চাহিদা আর সেই মতো তুলতে হবে ছবি। ব্যবসার শুরুর দিকেই বানিয়ে ফেলুন নিজের পোর্টফোলিও, ব্যবসা পাওয়া সহজ হবে। নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকলে ক্রেতার কাছে পৌঁছনো অনেক সহজ হয়। ছোট অনুষ্ঠান দিয়ে শুরু করলে ধীরে ধীরে বিভিন্ন কোম্পানির প্রডাক্ট বা মডেল শ্যুটেরও ডাক পেতে পারেন।

২৪. ডে কেয়ার সেন্টার

এখন প্রায় প্রতিটি পরিবারেই স্বামী-স্ত্রী উভয়েই কর্মরত, ফলে বাচ্চাকে সেই সময়টুকু রাখার জন্য প্রয়োজন পড়ে ডে কেয়ার সেন্টারের। আপনি যদি বাচ্চা ভালবাসেন আর তাদের দেখভাল করতে পছন্দ করেন তাহলে অত্যন্ত অল্প টাকায় ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

এর জন্য প্রয়োজন হবে খানিকটা জায়গা, তা হতে পারে আপনার নিজের বাড়িতে বা অন্য কোনও ভাড়া করা জায়গা। বিভিন্ন বয়সের বাচ্চার কথা মাথায় রেখে কিছু খেলনা রাখুন, রাখুন বাচ্চাদের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো।

তবে এই ব্যবসাতে মহিলাদের উপস্থিতি আবশ্যিক। শুধু মাত্র পুরুষদের পক্ষে এই ব্যবসার পরিচালন সম্ভব নয়, মা-বাবারা সব সময়েই চাইবেন মহিলাদের উপস্থিতি।

এই ব্যবসা করতে গেলে হতে হবে ধৈর্য্যবান, মনোযোগী আর দায়িত্বজ্ঞান সম্পন্ন। বুঝতে হবে বাচ্চাদের মন। নিজেদের বাচ্চাদের সম্পূর্ণ আপনার দায়িত্বে রেখে যাবেন বাবা-মায়েরা তাই তাদের বিশ্বাস ও ভরসা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি।

২৫. ইন্টিরিয়র ডেকরেশন

অফিস হোক বা সুসজ্জিত ফ্ল্যাট, অন্দর সজ্জার প্রয়োজন সর্বত্র। ক্রেতার রুচিবোধ অনুযায়ী ঘর সাজাতে পারলে আর প্রয়োজনীয় দক্ষতা থাকলে অল্প টাকায় এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

এ বিষয়ে কোর্স করা থাকলে কাজ পেতে সুবিধা হবে, তবে না থাকলেও দক্ষতা ও উদ্ভাবনীর জোরে ক্রেতাকে খুশি করতে পারলে কাজের অভাব হবে না। অফিস, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত অন্দর সজ্জার প্রয়োজন পরে, অনেক ক্ষেত্রেই কাজ দেওয়া হয় টেন্ডার ডেকে। উপযুক্ত প্রস্তাব দিলে ডাক পাবেন কাজের।

ব্যবসা শুরুর আগে প্রয়োজনীয় হোম ওয়ার্ক সেরে নিন। যোগাযোগ তৈরি করুন দক্ষ মিস্ত্রীদের সঙ্গে, যাতে কাজ পেলে সহজেই রুচিসম্মত কাজ করতে পারেন।

২৬. কাগজের ব্যাগ তৈরি

পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথেই বাড়ছে কাগজের ব্যাগের ব্যবহার। ক্ষতিকর প্রভাবের জন্য আমাদের দেশেই অনেক জায়গায় প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গেও অনেক দোকানই প্লাস্টিকের বদলে কাগজের ব্যাগ ব্যবহারই বেশি পছন্দ করছে। এই ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে কাগজের ব্যাগ তৈরি করে সরবরাহ করুন।

ব্যাগ তৈরি করুন নানা মাপের, ডিজাইনে খানিক অভিনবত্ব আনুন। এমন কী পুরনো খবরের কাগজ দিয়েও তৈরি করতে পারেন ব্যাগ।

২৭. কাগজের কাপ, প্লেট তৈরি

পরিবেশ সচেতনতার কারণেই থার্মোকল বা প্লাস্টিকের কাপ প্লেটের জায়গায় কাগজের কাপ প্লেট ব্যবহারের প্রচলন বাড়ছে। রিসাইকেল করা কাগজ থেকে তৈরি করতে পারেন কাপ-প্লেট। এই ব্যবসা শুরু করলে হলে কাগজের কাপ-প্লেট তৈরির যন্ত্র বসাতে হবে। কাপ যন্ত্রের দাম শুরু ৬ লক্ষ টাকা থেকে।

২৮. গুঁড়ো মশলা তৈরি ও প্যাকেটজাতকরণ

উন্নতমানের গুঁড়ো মশলা তৈরি করে তা প্যাকেট করে বিক্রি করতে পারলে ভাল লাভ হতে পারে। আজকের ব্যস্ততার যুগে আর কেউই মশলা বাটার ঝামেলা রাখতে চায় না, তাই প্যাকেটজাত মশলার চাহিদা প্রচুর।

মশলা তৈরির কারখানার জন্য খুব বেশি জায়গা না হলেও চলবে। একটি ছোট্ট ঘর থেকেই শুরু করতে পারেন ব্যবসা। কিনতে হবে মশলা গুঁড়ো করার মেশিন, এগুলোর নাম পালভারাইজার মেশিন।

ছোট মেশিনে ঘন্টায় ১৮ কেজি থেকে ২৫কেজি মশলা গুঁড়ো করা সম্ভব, আর বড় মেশিনে ঘন্টায় ৪৫ কেজি থেকে ৫৫ কেজি মশলা উত্পন্ন হয়। ছোট মেশিন ৫০-৫৫ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায়, বড় মেশিনের দাম লাখ খানেক টাকা থেকে শুরু। এছাড়া রয়েছে প্যাকেজিংয়ের খরচ।

২৯. আদা-রসুনের পেস্ট তৈরি

গুঁড়ো মশলার পাশাপাশিই বাড়ছে আদা ও রসুনের পেস্টের চাহিদা। রান্নার সময়ে আদা, রসুন আলাদা করে না বেটে বাজার থেকে আনা প্যাকেটের পেস্টেই ভরসা করেন অনেকে।

আদা রসুনের পেস্ট তৈরির জন্য প্রয়োজন ওয়াটার জেট ওয়াশার, স্কিন পিলিং মেশিন, ক্রাশার মেশিন ও পালপিং মেশিন। এছাড়া রয়েছে প্যাকেজিংয়ের খরচ। সাধারণত তিন অংশ রসুনের সঙ্গে দুই অংশ আদা মিশিয়ে এই পেস্ট তৈরি করা হয়। এছাড়া মেশাতে হয় প্রিজারভেটিভ বা সংরক্ষণকর। সংরক্ষণকর হিসেবে তেল, হলুদ ও ভিনিগার মেশানো যেতে পারে।

৩০. পটেটো চিপস্ তৈরি

অত্যন্ত কম মূলধনে এই ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। বাজারে অনেক বহুজাতিক সংস্থার পটেটো চিপস্ পাওয়া গেলেও স্থানীয় দোকানে এখনও এই চিপস্-এর চাহিদা রয়েছে।

এর জন্য প্রয়োজন বড় ডেকচি, ছাকনি ও ভাজার জন্য কড়াই। এছাড়া চিপস্ সংরক্ষণের জন্য বড় এয়ারটাইট পাত্র। বাড়ি থেকেই শুরু করতে পারেন এই ব্যবসা। স্থানীয় দোকান বা ট্রেন-বাসের ফেরিওয়ালাদের কাছে সরবরাহ করতে পারেন এই চিপস্।

৩১. বড় দোকানে স্থানীয় জিনিস সরবরাহ

রিল্যায়েন্স ফ্রেশ, মোর ইত্যাদি মেগাস্টোরে স্থানীয়ভাবে উত্পন্ন ফল, সব্জি, খোলা মশলা ইত্যাদি সরবরাহ করতে পারেন। চাষীদের থেকে পণ্য সংগ্রহ করে পৌঁছে দিতে হবে দোকানে। এর জন্য চাষী এবং মেগাস্টোরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। ব্যবস্থা করতে হবে মাল পরিবহণেরও। তবে প্রাথমিকভাবে খুব বেশি বিনিয়োগ না থাকলেও শুরু করা যাবে ব্যবসা।

৩২. ডেলিভারি বয় বা সিকিউরিটি গার্ডের এজেন্সি

ফ্লিপকার্ট, অ্যামাজনের মতো ই কমার্স কোম্পানি বা জোম্যাটো, স্যুইগির মতো খাবার সরবরাহকারী কোম্পানি ডেলিভারি বয়ের প্রয়োজন সর্বত্র। এছাড়া সব বড় কোম্পানিই বেসরকরি এজেন্সির থেকে নিয়মিত সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ করে থাকে। এই দুটি ক্ষেত্রেই বিশ্বাসযোগ্যতাই হল মূল বিষয়। আপনার স্থানীয় ছেলেদেরই আপনি নিয়োগ করতে পারেন এই এজেন্সির মাধ্যমে। এতে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানও হবে, আপনিও লাভ করতে পারবেন নিয়মিত। যে সব কোম্পানি এইধরণের কর্মী নিয়োগ করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করতে হবে, হয়ে উঠতে হবে ভরসাযোগ্য।

৩৩. পুরনো জিনিসের দোকান

পুরনো জিনিসের দোকান বাইরের বিভিন্ন দেশে বেশ জনপ্রিয় হলেও আমাদের দেশে এর খুব প্রচলন নেই। তবে জামা কাপড় না হলেও পুরনো ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন বা অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক জিনিস কিনতে আগ্রহী হন অনেকেই। অন্যদিকে পুরনো জিনিসে বিক্রেতা তার অপ্রয়োজনীয় জিনিস অনেক সময়েই খুব কম দামে বিক্রি করে দিতে চান। পুরনো জিনিস সংগ্রহ করে বা কিনে নিয়ে তা বিক্রি করতে পারেন বেশি দামে। ভাল অবস্থায় থাকা জিনিস সংগ্রহ করতে পারলে লাভ হবে, আর ক্রেতাও একই দোকানে পাবেন নানারকম পুরনো ব্যবহার্য জিনিস।

৩৪. ডায়াগনসিস্ সেন্টার
আপনার এলাকায় যদি রোগ নির্ণায়ক পরীক্ষা পরিষেবা না থাকে তাহলে এই ব্যবসার কথা ভাবতে পারেন। প্রতিবার শহরে গিয়ে রোগ নির্ণায়ক পরীক্ষা করানো খরচ সাপেক্ষ ও পরিশ্রমেরও। থাইরয়েড, ডায়াবেটিসের মতো রোগে নিয়মিত পরীক্ষা করাতে হয় রোগীকে। তাই এই ধরণের সাধারণ পরীক্ষার ব্যবস্থা করে শুরু করতে পারেন ব্যবসা। পরবর্তীতে প্রয়োজন ও চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন মেশিন কিনে ব্যবসা বাড়াতে পারেন। তবে এই ব্যবসা শুরু করতে খানিক বিনিয়োগ প্রয়োজন। নয়তো বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে কাছের বড় শহরে গিয়ে পরীক্ষা করিয়ে আনতে পারেন।

৩৫. প্রি-স্কুল ফ্র্যাঞ্চাইজি
ক্ষুদে পড়ুয়াদের জন্য তৈরি প্রি স্কুল বা প্লে স্কুলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। মাঝারি ও ছোট শহরে নিজেদের ফ্র্যাঞ্চাইজি খুলতে আগ্রহী হচ্ছে কিডজি বা ট্রিহাউজের মতো প্রি স্কুল চেইনগুলো। প্রি স্কুলের ফ্র্যাঞ্চাইজি খোলার সুবিধা হল সংশ্লিষ্ট সংস্থার থেকেই নানা ধরনের সাহায্য পাওয়া যাবে। শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ, তাঁদের প্রশিক্ষণ, প্রচার ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে তারা সহায়তা করতে হবে। আপনাকে জায়গা, অন্দরসজ্জা, আসবাব, বাচ্চাদের খেলনা ইত্যাদির ব্যবস্থা করতে হবে। ১৫০০০ স্ক্যোয়্যার ফুটের একটি জায়গা পেলে ভাল হয়। সব মিলিয়ে তিন থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা মতো বিনিয়োগ করতে হবে এই ব্যবসায়।

এই ৩৫টি ছাড়াও অল্প টাকায় ব্যবসা করার উপায় রয়েছে অনেক, রয়েছে বিনিয়োগ ছাড়া আয়ের সুযোগ। অল্প টাকায় ব্যবসার আইডিয়া পেতে আপনার চারদিকে তাকান, মানুষের চাহিদা বোঝার চেষ্টা করুন, ভাবুন কোন কোন পরিষেবার অর্থের বিনিময় কিনতে আগ্রহী তারা আর তার মধ্যে কোন চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা আপনার রয়েছে। আগ্রহ, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তা শক্তিই ছোট ব্যবসার সাফল্যের চাবিকাঠি।