সুন্দর আগামীর জন্য প্রয়োজন আর্থিক পরিকল্পনা

দেশে বেশ উচ্চ হারে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে। বাড়ছে মাথাপিছু আয়। তবে তাতে সবার জীবনমানের উন্নতির নিশ্চয়তা মিলছে না।আবার বিচ্ছিন্নভাবে অনেকের জীবনমানের উন্নতি হলেও তার স্থায়ীত্ব নিয়ে আছে অনিশ্চয়তা।অন্যদিকে নগরমুখী ও পুঁজিবাদি উন্নয়নের ফলে শিথিল হচ্ছে পারিবারিক বন্ধন।বাড়ছে বিচ্ছিন্নতাবোধ। এসব কারণে ব্যক্তিজীবনে আর্থিক চাপ না কমে বরং ক্রমাগত বাড়ছে। সামান্য আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাচ্ছে সব। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নতুন করে এ দুর্বলতা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছে। এমন বাস্তবতায় ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে আর্থিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে আর্থিক পরিকল্পনার বিষয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

আর্থিক পরিকল্পনা একদিকে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা বাড়ায়, অন্যদিকে আর্থিক সমৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করে।আয় থেকে সঞ্চয়,সঞ্চয়কে বিনিয়োগে রূপান্তর,কম ঝুঁকিতে উচ্চ রিটার্নের বিনিয়োগ, সরকারের দেওয়া কর-সুবিধা কাজে লাগানো ইত্যাদির মাধ্যমে সম্পদের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব।এটি ব্যক্তিজীবনে নিয়ে আসতে পারে আর্থিক সমৃদ্ধি।

আর্থিক পরিকল্পনা (Financial Planning) কেন প্রয়োজন

নানা কারণে মানুষের জীবনে আর্থিক পরিকল্পনা খুবই জরুরি। এর মধ্যে পাঁচটি বিষয়কে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।এগুলো হচ্ছে-মূল্যস্ফীতি (Inflation) সমন্বয়,দীর্ঘ মেয়াদী লক্ষ্য (Long term goals), জরুরি প্রয়োজন নিবারণ,স্বপ্ন পূরণ ও অবসর জীবনের চাহিদা মেটানো।

মূল্যস্ফীতিঃ

নানা কারণে প্রতিবছরই দেশে মূল্যস্ফীতি ঘটছে।অর্থাৎ জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে।কমছে টাকার ক্রয়ক্ষমতা।গত কয়েক বছরে দেশে গড়ে ৬ শতাংশের কাছাকাছি হারে মূল্যস্ফীতি হয়েছে।এর অর্থ-একটি জিনিসের দাম আগের বছর ১০০ টাকা হয়ে থাকলে পরের বছর তার দাম দাঁড়াচ্ছে ১০৬ টাকা।পাঁচ বছর পরে একই জিনিস কিনতে প্রয়োজন ১৩৪ টাকা।এ অবস্থায় একজন ব্যক্তির আয় যদি পাঁচ বছরে ৩৪% না বাড়ে তাহলে তাকে আগের চেয়ে কম পরিমাণ পণ্য ও সেবা কিনতে হবে অথবা সম্পদ বিক্রি বা ঋণ করে চাহিদা মেটাতে হবে। তাই ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতিজনিত সমস্যা এড়াতে আগে থেকেই আয়, সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে।

দীর্ঘ মেয়াদী লক্ষ্যঃ

মানুষের জীবনে নানা ধরনের লক্ষ্য থাকে।কেউ হয়তো একটি বাড়ি নির্মাণ করতে চান বা কিনতে চান একটি ফ্ল্যাট।কেউ চান একটি গাড়ি কিনতে। কেউ আবার সন্তানকে উচ্চতর শিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানোর কথা ভাবেন।আর প্রতিটি লক্ষ্য পূরণের সাথেই রয়েছে অর্থের সম্পর্ক।প্রয়োজন বেশ বড় অংকের টাকা।তাই আগে থেকে পরিকল্পনা করে প্রস্তুতি না নিলে এ ধরনের লক্ষ্য পূরণ বেশ দুরুহ হয়ে উঠতে পারে।

জরুরি প্রয়োজনঃ

মানুষের জীবনে জরুরি প্রয়োজনের শেষ নেই। হঠাৎ নিজে অথবা পরিবারের কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন।একমাত্র আয়ের উৎস চাকরিটি চলে যেতে পারে।ব্যবসায় হতে পারে লোকসান।এমন নানাবিধ কারণে জরুরিভিত্তিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকার প্রয়োজন হতে পারে পরিস্থিতি সামলে নিতে।আগে থেকে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি না থাকলে এমন পরিস্থিতিতে অথৈ সাগরে পড়ে যেতে হয়।

স্বপ্ন পূরণঃ

মানুষ স্বপ্ন দেখতে ভালবাসে।মনেপ্রাণে চায় এর কোনো কোনোটি পূরণ করতে।দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের পেছনে থাকে এমন অনেক স্বপ্ন।আবার হঠাৎ করেই তার স্বপ্ন জাগতে পারে পরিবার নিয়ে বিদেশ ভ্রমণে যাওয়ার বা এ জাতীয় কিছুর।আগে থেকে আর্থিক প্রস্তুতি না থাকলে এসব স্বপ্ন অধরা-ই থেকে যায়।

অবসর জীবনঃ

চাকরি অথবা ব্যবসা-মানুষ যে পেশাতেই যুক্ত থাকুক না কেন জীবনের এক পর্যায়ে তাকে পেশা থেকে অবসর নিতেই হয়। দেশে বেসরকারি চাকরিতে কোনো পেনশনের ব্যবস্থা নেই। সরকারি চাকরিতে পেনশন থাকলেও বেতন পাওয়া যায় অর্ধেকের মতো।আর স্ব-নিয়োজিত পেশা হলেও অবসরের পর কোনো আয়ের সুযোগ থাকে না। অথচ কিছু চাহিদা জীবনের সব পর্যায়ে অনিবার্য।তাই অবসরকালীন জীবনটি যাতে দুর্ভোগের না হয়ে উঠে তা নিশ্চিত করতে আগে থেকেই প্রয়োজন প্রস্তুতি, প্রয়োজন আর্থিক পরিকল্পনা।